বিয়ে উৎসব । W.E.D.D.I.N.G CULTURE
” যার বিয়ে তার খোঁজ নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই “
প্রচলিত কথাটার বাস্তবতা সেই বুজতে পারে যার বিয়ে । আধুনিক বিয়েতে এত এত প্রকার
আয়জনে খোঁজ না থাকাটাই স্বাভাবিক । এত এত আয়োজনে বলে কথা . . .
বাংলাদেশের সর্বত্র এই আয়োজন কে বলে “বিয়ে” কিংবা “বিবাহ” । অঞ্চলভেদে আরো ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হয় । যেমন : বিয়্যা , শাদী ,কখনোবা হেঙ্গা ।
সর্বক্ষেত্রে বিয়ের মুল তিনটি অংশ
১. গায়ে হলুদ
২. মুল বিয়ে
৩. ওয়ালিমা বা বৌভাত
থাকলেও এখন বিয়ের আয়োজন গড়িয়েছে মাসব্যাপি । কি কি থাকছে এই কার্যক্রম এ -
- পানচিনি
- আখত
- গায়ে হলুদ
- মুল বিয়ের দিন
- ওয়ালিমা
- ফিরাযাত্রা
পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের ফ্যাশন হাউজ গুলো । আয়োজনে থাকছে প্রতিটি পর্বের জন্য সমাহার । ক্রেতাদের গাইডলাইন দেয়া হচ্ছে কোন পর্বে কোন পোশাক মানানসই। যাতে প্রকাশ পাবে আপনার রুচিবোধ, অক্ষুন্ন থাকবে আপনার সামাজিক মর্যদা ।
দেখে নেয়া যাক কিছু আয়োজন :
চিত্র : আড়ং / ওয়েডিং-২০১৮
- পানচিনি :
গ্রামবাংলায় এই কনে দেখার অনুষ্ঠানকে বলা হতো 'পানচিনি'। এখনো বলা হয়। কারণ , কারো বাড়িতে অতিথি হিসেবে গেলে উপহার হিসেবে সঙ্গে কিছু নেওয়াটা বাংলার চিরায়ত রীতি। প্রাচীনকাল থেকেই পান-সুপারি বাঙালির সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে চলে আসছে। সেকালে কারো বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় সঙ্গে পান-সুপারি নেওয়াটা ছিল রেওয়াজ। বরপক্ষ প্রথম যখন কনেকে দেখতে যেত সঙ্গে নিতো পান-সুপারি আর চিনি-বাতাসা। এই পান-চিনি থেকেই কনে দেখার অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় 'পানচিনি' বা 'পানচিনির দাওয়াত'।অঞ্চল বিশেষ 'পাকা দেখা' অনুষ্ঠানকেও 'পানচিনি' বলা হয়ে থাকে
চিত্র : গুগল
- আখত
চিত্র : আড়ং / ওয়েডিং-২০১৮
গায়ে হলুদ আমাদের সংস্কৃতে এমন ভাবে মিশে আছে যে এই অনুষ্ঠান না করা হলে বিয়ের অনুষ্ঠানই অসম্পূর্ন
থেকে যায়। স্টেজ বানানো , ডালা কুলা সাজানো , মেয়ের বাড়িতে মাছ পাঠানো , হলুদ শেষে গোসল করানো , নিজেদের মধ্যে হলুদ, মেন্দি দেয়া , রং খেলা,গান বাজনা, নাচা-গাওয়া সবকিছু মিলিয়ে এ এক উৎসব মুখর প্রানের খেলা । গায়ে হলুদ অবশ্যাই পালনীয় ।
চিত্র : আড়ং / ওয়েডিং-২০১৮

- মুল বিয়ের দিন
এই অনুষ্ঠানের য়োজন করে থাকেন মুলত কনেপক্ষ । এবং বরপক্ষ এখানে অতিথির মতো উপস্থিত হোন। অনুষ্ঠানে বরপক্ষ পরিবার-পরিজন, নিকটাত্মীয়, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের সমন্বয়ে গঠিত বরযাত্রী নিয়ে উপস্থিত হন।
মুল বিয়েতে বরযাত্রি গেট ধরা নেয় ছোটরা আনন্দ করে থাকেন । সাধারণত অনুষ্ঠানে বর ও কনের জন্য আলাদা আলাদা স্থান থাকে। বর গিয়ে তার জন্য নির্ধারিত আসনে আসীন হোন। নতুন আত্নীয় সাথে পরিচয় হতে হতে শুরু হয় ভোজনপর্ব। বিয়ের ভোজন শুরু করা হয় বরের ভোজন দিয়ে। বরের জন্য এজন্য বিশেষভাবে আলাদা একটি বড় থালাতে খাবার সাজানো হয় ।
বিয়ের ভোজন পর্ব শেষ হলে বরকে নিয়ে যাওয়া হয় কনের কাছে এবং দুজনকে একত্র করে বসানো হয়। সেখানে আরো কিছু আচার পালন শেষে আসে বিদায় পর্ব। কনেকে বরের হাতে তুলে দেন কনেপক্ষ এবং বরপক্ষ, কনেকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন অনুষ্ঠানস্থল থেকে স্বীয় বাড়ি অভিমুখে। এসময় কনেপক্ষের মধ্যে অশ্রুসজল মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
চিত্র : আড়ং / ওয়েডিং-২০১৮
- ওয়ালিমা
বিয়ের পর ছেলের পক্ষে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষীআপ্যায়ন করাকে ‘ওয়ালিমা’ বলে।বাংলায় ওয়ালিমাকে বউভাত বলা হয়ে থাকে। বিয়ের পরদিন বা পরবর্তী সময়ে সুবিধামতো নিকটতম সময়ের মধ্যে ওয়ালিমা করা হয় ।
চিত্র : বিশ্বরঙ / ওয়েডিং-২০১৭
- ফিরাযাত্রা
বিয়ের কিছুদির পর কনের বাবার বাড়ি ফিরে আসাকে নাইওর আসা বলে । এ সময়টা একটা মেয়ের জন্য অন্যরকম ভালোলাগা । এ সময় বাবার বাড়ি মেয়ের ফেরা উপলক্ষে বিভিন্ন রকম পিঠা কুলি বানানো হয় ।
বিয়ের অনুষ্ঠানে বর, কনের পোশাক এবং পোশাকের রঙ এ একটা নিজস্বতা থাকলেও গ্লোবাল ফ্যাশন এর কিছুটা প্রভাব থেকেই যায় । ২০১৮ এর বিয়ের পোশাকের রঙ নিয়ে ধারনা :
পানচিনি
সবশেষে বিয়ের কেনাকাটা এবং আয়োজন হোক আমাদের দেশীয় আদলে । সক্রিয় হোক আমাদের ঐতিহ্য ।
সবার জন্য শুভ কামনা ।
source :
http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
https://www.facebook.com/BRAC.AARONG/
https://www.facebook.com/bishworangfanclub/
https://www.google.com/














0 Yorumlar